নারীর জীবনে মেনোপজ: সাধারণ উপসর্গ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা
নারীর জীবনে মেনোপজ একটি স্বাভাবিক ও অনিবার্য শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন। সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে মাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে একে প্রাকৃতিক মেনোপজ বলা হয়। তবে কোনো কারণে জরায়ু বা ডিম্বাশয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হলে হঠাৎ হরমোনের ঘাটতি দেখা দেয়, যাকে পোস্ট-সার্জিক্যাল মেনোপজ বলা হয়। উভয় ক্ষেত্রেই নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেনোপজের মূল কারণ হলো শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমে যাওয়া। এই হরমোনগুলো নারীর শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হরমোনের স্বাভাবিক এই পরিবর্তনের ফলেই মেনোপজ ঘটে এবং একাধিক শারীরিক ও মানসিক উপসর্গ দেখা দেয়।
সাধারণ উপসর্গ
মেনোপজের সময় নারীরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন, তার মধ্যে রয়েছে—
- হঠাৎ শরীর গরম হয়ে যাওয়া ও অতিরিক্ত ঘাম
- ঘুমের সমস্যা ও দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া
- অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা ও মন খারাপ থাকা
- দাম্পত্য জীবনে আগ্রহ ও স্বাচ্ছন্দ্য কমে যাওয়া
- গোপন অঙ্গে শুষ্কতা ও দৈনন্দিন কাজে অস্বস্তি
- হাড়ের শক্তি কমে যাওয়া বা অস্টিওপোরোসিস
- ওজন বৃদ্ধি ও হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া
চিকিৎসকদের মতে, পোস্ট-সার্জিক্যাল মেনোপজে এসব উপসর্গ অনেক সময় আরও তীব্রভাবে দেখা দেয়, কারণ এ ক্ষেত্রে হরমোন হঠাৎ করেই কমে যায়।
রোগ নির্ণয় ও পরীক্ষা
মেনোপজ সাধারণত নারীর বয়স ও উপসর্গের ভিত্তিতেই নির্ণয় করা হয়। তবে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকেরা কিছু পরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে—
- হরমোন পরীক্ষা (FSH, Estradiol)
- থাইরয়েড পরীক্ষা
- রক্তচাপ, রক্তে চর্বি ও শর্করার মাত্রা
- হাড়ের ঘনত্ব নির্ণয়ের পরীক্ষা
এই পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে নারীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।
চিকিৎসা ও হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি
মেনোপজ ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি হলো হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (HRT)। এ চিকিৎসায় শরীরে কমে যাওয়া হরমোন প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় সরবরাহ করা হয়।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হলে HRT-এর মাধ্যমে—
- গরম লাগা ও ঘুমের সমস্যা কমে
- মানসিক স্থিরতা ও কর্মক্ষমতা বাড়ে
- দাম্পত্য জীবনের অস্বস্তি হ্রাস পায়
- হাড়ক্ষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়
- সামগ্রিক জীবনমানের উন্নতি ঘটে
বিশেষ করে যেসব নারীর জরায়ু অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা অনেক সময় বেশি উপকারী হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

